যুক্তরাষ্ট্র গত মাসে শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। এছাড়া দ্বিতীয় শীর্ষ অর্থনীতির দেশ চীনের চাহিদা বাড়ায় জানুয়ারিতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ছিল বৈশ্বিক পণ্যবাজার। অন্যদিকে গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকিতে আর্থিক বাজারে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল। এটিও বৈশ্বিক পণ্যমূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। খবর আনাদোলু এজেন্সি।
গত মাসে ডলারের বিনিময় হার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। সেই সঙ্গে ফিউচার বন্ডের দামও বেড়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি কমেছে। এতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার কমানোর সম্ভাবনা বেড়েছে। তাই এমন প্রেক্ষাপটেও জানুয়ারিতে স্বর্ণের দাম বেড়েছে আউন্সপ্রতি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয় ও ট্রাম্পের শুল্ক ও বাণিজ্যনীতি নিরাপদ বিনিয়োগের আশ্রয় খাত হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়িয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, শেয়ারবাজারের অস্থিতিশীলতা বাড়লে চলতি বছর তা আরো ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকবে।
জানুয়ারিতে রুপার মূল্যবৃদ্ধিতেও ভূমিকা রেখেছে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা। এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ খাতে শক্তিশালী চাহিদা ও সরবরাহ সংকটে এ সময় ধাতুটির দাম ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।
অটোমোবাইল শিল্প থেকে বিশ্বের ৭০ শতাংশ প্যালাডিয়ামের চাহিদা আসে। এছাড়া এতে প্লাটিনামের ব্যবহারও বেশি। ট্রাম্প অটোমোবাইল শিল্পের প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেয়ায় দুটি ধাতুর দামই জানুয়ারিতে বেড়েছে। এ সময় প্যালাডিয়াম ও প্লাটিনামের দাম যথাক্রমে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ও ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। বিশ্লেষকরা বলছেন, সামনের দিনগুলোয় প্যালাডিয়ামের দাম আউন্সপ্রতি ১ হাজার ১০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
ব্যবহারিক ধাতুগুলোর মধ্যে গত মাসে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে তামার দাম। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে বৈদ্যুতিক যানবাহনসহ বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ খাতের চাহিদা। এছাড়া চীনের চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনাও দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার অন্যতম কারণ।
গত মাসে অ্যালুমিনিয়ামের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। নিকেল ও দস্তার দাম বেড়েছে যথাক্রমে দশমিক ৯ ও ৮ শতাংশ। তবে এ সময় সিসার বাজারদর স্থিতিশীল ছিল।
রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন ও রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগে পণ্যটির আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ। এছাড়া লিবিয়ায় সরবরাহ উদ্বেগও মূল্য বৃদ্ধিতে অন্যতম ভূমিকা রেখেছে।
জানুয়ারিতে ভুট্টার দাম ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। বুশেলপ্রতি (৬০ পাউন্ড) মূল্য স্থির হয়েছে ৪ দশমিক ৯৮ পাউন্ডে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগে গমের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ। সয়াবিনে তা ৩ দশমিক ১ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
এদিকে বেশ কয়েকদিন ঊর্ধ্বমুখী ছিল কফির আন্তর্জাতিক বাজারদর। গত মাসে তা ১৮ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।
ভারতে নিম্নমুখী উৎপাদনের পূর্বাভাসে চিনির দাম বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ। কোকো ও তুলার দাম যথাক্রমে ৭ ও ৩ দশমিক ১ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।